ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার শহরে অবস্থিত হাজার বছরের পুরনো ভোজশালা-কামাল মাওলা স্থাপনাটিকে সরস্বতী মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। শুক্রবার (১৫ মে) বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্ল এবং বিচারপতি অলোক অবস্থীর বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। একইসঙ্গে মুসলিম পক্ষকে নামাজ পড়ার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে বিকল্প স্থান খুঁজে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আদালত।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধে হিন্দুত্ববাদীদের দাবি ছিল, স্থাপনাটি রাজা ভোজের তৈরি প্রাচীন সরস্বতী মন্দির। অন্যদিকে মুসলিম পক্ষ একে কামাল মাওলা মসজিদ হিসেবে দাবি করে আসছিল। এতদিন সেখানে প্রতি মঙ্গলবার হিন্দুদের পূজা এবং শুক্রবার মুসলিমদের নামাজ পড়ার অনুমতি ছিল। তবে ২০২২ সালে ‘হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস’ সেখানে একচ্ছত্র হিন্দু উপাসনার দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়।
আদালতের নির্দেশে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই) ৯৮ দিন ধরে ওই স্থানে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালায়। দুই হাজার পাতার প্রতিবেদনে এএসআই জানায়, বর্তমানে যেখানে মসজিদ রয়েছে, সেখানে আগে পারমার বংশের আমলে তৈরি বিশাল একটি কাঠামো ছিল। বিভিন্ন ঐতিহাসিক সাহিত্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত নিশ্চিত হয়েছে যে, এটি মূলত রাজা ভোজের একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র ও মন্দির ছিল।
রায়ে বলা হয়েছে, স্থাপনাটির সংরক্ষণ ও সুরক্ষার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে এএসআই-এর হাতে। এছাড়া লন্ডনের জাদুঘর থেকে দেবী সরস্বতীর মূল প্রতিমা ফিরিয়ে এনে স্থাপনাটিতে পুনরায় স্থাপনের যে আবেদন হিন্দু পক্ষ করেছে, তা বিবেচনা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতিরা। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, তথ্যপ্রমাণ অনুযায়ী ওই স্থানে হিন্দু উপাসনার ধারাবাহিকতা কখনো পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি।
এদিকে মুসলিম পক্ষ এই রায় এবং এএসআই-এর সমীক্ষাকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে অভিহিত করেছে। তারা শুরু থেকেই স্থাপনাটিকে মসজিদ হিসেবে দাবি করে আসছিল। আদালতের এই আদেশের ফলে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন এক মোড় এল, যা নিয়ে অঞ্চলটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
