চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রাবেয়া বেগমকে লাথি মেরে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় গর্ভের দুই অনাগত সন্তানও মারা যায়—ফলে একসঙ্গে নিভে যায় তিনটি প্রাণ।
রাবেয়া বেগম ছিলেন গৃহিণী এবং ভ্যানচালক মো. মামুনের স্ত্রী। তাঁদের সংসারে আগে থেকেই তিন কন্যাসন্তান ছিল। পরে আবার অন্তঃসত্ত্বা হন রাবেয়া।
কীভাবে ঘটল ঘটনা
ঘটনার সময় রাবেয়া সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ওষুধ না আনা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মামুন তাঁর স্ত্রীর তলপেটে লাথি দেন। ঘটনাস্থলেই রাবেয়ার মৃত্যু হয়।
পরবর্তীতে ঘটনাটি আড়াল করতে স্বামী নিজের ভ্যানে করে লাশ একটি নির্জন বিলে নিয়ে যান এবং সেখানে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে মরদেহের বড় একটি অংশ পুড়ে যায়।
মামলার রায়
ঘটনাটি ঘটেছিল প্রায় ৯ বছর আগে, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার হারামিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাচিয়াপাড়া গুচ্ছগ্রামে।
সাম্প্রতিক রায়ে আদালত—
স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী মামুনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড
লাশ পোড়ানোর দায়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড
৫০ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড)
পারিবারিক পটভূমি ও পূর্ব ইতিহাস
২০০৩ সালে রাবেয়া ও মামুনের বিয়ে হয়। তাঁদের প্রথমে একটি কন্যা সন্তান, পরে যমজ কন্যা জন্ম নেয়। পরপর কন্যাসন্তান হওয়ায় মামুন অসন্তুষ্ট ছিলেন বলে জানা যায়।
পরবর্তী গর্ভে যমজ সন্তান ছিল—তবে পরে জানা যায়, তারা দুজনই ছেলে।
তদন্ত ও স্বীকারোক্তি
ঘটনার পর এলাকাবাসী মামুনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে রিমান্ডে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতেও জবানবন্দি দেন।
তদন্ত শেষে মামুন ও তাঁর চাচাকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামুন দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাঁর চাচা খালাস পান।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামুন পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে বিচার চলাকালে আদালতে হাজিরা দিতেন। তবে রায় ঘোষণার আগে তিনি পলাতক হয়ে যান।
স্বজনদের দাবি
নিহত রাবেয়ার পরিবার ও বাদীপক্ষের দাবি— দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন নির্মম ঘটনা আর না ঘটে।







