ভিন্নমতালম্বী সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেছে ফ্রান্স। এই প্রথম সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা খতিয়ে দেখতে কোনো ফরাসি বিচারককে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হলো, যা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ফ্রান্সের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী প্রসিকিউটর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, দেশটির ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ দমন ইউনিট’-এর একজন দক্ষ বিচারককে এই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ‘ট্রায়াল ইন্টারন্যাশনাল’ এবং ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’ (আরএসএফ)-এর করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্যারিসের একটি আপিল আদালত এই ঐতিহাসিক আইনি তদন্তের অনুমোদন দেয়।
২০১৮ সালের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর জামাল খাশোগিকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা এবং তাঁর মরদেহ টুকরো টুকরো করার ঘটনা ঘটে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা ছিল, এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ সরাসরি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পর পশ্চিমা কোনো পরাশক্তির কাছ থেকে যুবরাজের বিরুদ্ধে এমন কড়া আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা এল।
এর আগে ২০২২ সালে তুরস্ক এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে নথিপত্র সৌদি আরবে স্থানান্তর করে এবং মার্কিন প্রশাসনও যুবরাজকে আইনি দায়মুক্তি দেয়, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম সমালোচনা হয়েছিল। সেই স্থিমিত হয়ে পড়া বিচার প্রক্রিয়াকে ফরাসি আদালতের এই সিদ্ধান্ত নতুন করে চাঙ্গা করে তুলেছে। ফরাসি আইন অনুযায়ী, বিদেশে সংঘটিত সুনির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে ফরাসি বিচারকেরা তদন্ত করার এখতিয়ার রাখেন।
বৈশ্বিক রাজনীতি, কূটনীতি এবং তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণে বড় ধরনের তোলপাড় ফেলা ফ্রান্সের এই তদন্ত শুরুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য করা হয়নি। তবে মানবাধিকার কর্মীরা ফ্রান্সের এই উদ্যোগকে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
