চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া মোহাম্মদ আরিফুল ইসলামকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন পদ পাওয়া এই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক মাদক সংশ্লিষ্ট মামলায় আসামি হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
গত বুধবার (১৩ মে) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতেই মোহাম্মদ আরিফুল ইসলামকে অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়কের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়, যার পরপরই তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালে কর্ণফুলী থানায় দায়ের হওয়া একটি মাদক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন আরিফুল। সে সময় মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে স্থানীয় জনতা চারজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিল এবং তাদের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৩ সালে দায়ের হওয়া আরও একটি মামলায়ও তাঁর নাম উঠে আসে, তবে পরবর্তীতে ওই মামলায় পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে তিনি আদালত থেকে অব্যাহতি পান।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম মামলার বিষটি নিশ্চিত করে জানান, মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাদকসহ দুটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। এর মধ্যে অপর একটি মামলা থেকে তিনি আইনিভাবে অব্যাহতি পান। এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ আরিফুল ইসলামের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক নুর শাহেদ খান রিপন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও অবগত নন, তবে বিভিন্ন মাধ্যমে খবরটি জানতে পেরেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি এই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার চূড়ান্ত এখতিয়ার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের।
