ভ্রমণ বা ওমরাহ সংক্রান্ত নথিপত্রে জাল সিল ব্যবহার করে পবিত্র মক্কায় প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক আহমেদ আলী মুকিব। বর্তমানে তিনি সৌদি পুলিশের কঠোর হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
কূটনৈতিক ও স্থানীয় একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, গত ৯ মে মক্কায় প্রবেশের একটি প্রধান চেকপোস্টে আহমেদ আলী মুকিবের কাগজপত্র পরীক্ষার সময় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। সৌদির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, তিনি বৈধ প্রক্রিয়া বা অনুমতিপত্র না নিয়ে, উল্টো জাল সিল ব্যবহার করে পবিত্র মক্কায় ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। এই ঘটনার পর মক্কা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মক্কায় প্রবেশের চেষ্টা এবং নকল সিল ব্যবহার করার অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে আহমেদ আলী মুকিবের বর্তমান অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে এবং তাঁর দ্রুত মুক্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। রিয়াদ ও জেদ্দাভিত্তিক দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্রগুলো এই বিশেষ তৎপরতার কথা নিশ্চিত করেছে।
সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস ও জেদ্দায় অবস্থিত কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই আটক আহমেদ আলী মুকিবের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক ‘কনস্যুলার অ্যাক্সেস’ বা যোগাযোগের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা বর্তমান আইনি পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের এই শীর্ষ কর্মকর্তার এমন স্পর্শকাতর ও বেআইনি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে সৌদি আরবে গ্রেপ্তার হওয়ার খবরটি প্রকাশ পাওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
