চট্টগ্রাম নগরের টাইগারপাস এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি অপসারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সেখানে নতুন করে গ্রাফিতি আঁকতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন এনসিপির নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের তীব্র ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনজনকে ক্ষণিকের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাইগারপাস এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত দেয়ালচিত্র বা গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগ ঘিরে রোববার রাত থেকেই থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপি ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং সোমবার সকাল থেকেই টাইগারপাস ও লালখান বাজারসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুর ১টার দিকে কয়েকজন এনসিপিকর্মী টাইগারপাস মোড় এলাকায় নতুন করে গ্রাফিতি আঁকার প্রস্তুতি নেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাদের দেয়ালে আঁকতে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধস্তাধস্তিতে রূপ নিলে পুলিশ তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের হেফাজতে নেয়, তবে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কিছুক্ষণ পরই আবার তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এনসিপির নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপ্লবী চেতনাকে রাষ্ট্রীয় শক্তি দিয়ে দমিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের যে নতুন প্রত্যাশা ও স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল, এখন আবার ক্ষমতার অপব্যবহার করে নতুন করে স্বৈরাচারী আচরণের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। এই ধরনের দমনমূলক আচরণ তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটার আশঙ্কায় তিনজনকে সাময়িকভাবে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছিল এবং পরে পরিস্থিতি বুঝে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে নগরের উদ্ভূত আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির কারণে সোমবার সকালে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সই করা এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার পর্যন্ত পুরো এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে নগরের গুরুত্বপূর্ণ জোনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে।
