ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের নেতৃত্ব প্রত্যাশী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ রনির বিরুদ্ধে এক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার কাছ থেকে মামলা ‘হোল্ড’ রাখার কথা বলে লক্ষাধিক টাকা চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি অডিও কলের রেকর্ডের মাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। হোয়াটসঅ্যাপে হওয়া কথোপকথনের সময় ভুক্তভোগী অন্য একটি মোবাইল ফোন দিয়ে বিষয়টি ভিডিও আকারে ধারণ করেন, যেখানে রনির ব্যবহৃত নম্বরও স্পষ্ট দেখা যায়।
অডিওটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ের। কথোপকথনে রনিকে বলতে শোনা যায়, একটি মামলার তালিকায় কয়েকজনের নাম এসেছে এবং মোটা অঙ্কের টাকা দিলে বিষয়টি ‘হোল্ড’ রাখা সম্ভব। তিনি দাবি করেন, “সমন্বয়ক কও, শিবির কও, আমাদের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি কও—সব জায়গায় টুকটাক যাবে।” ভুক্তভোগীর পদ ছিল না বললেও রনি তাকে আশ্বস্ত করেন যে, ছাত্রদলের মাধ্যমে বিষয়টি সমন্বয় করা হবে। এছাড়া “ছাত্রদল-ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে একসাথে সব ঠিকঠাক করে, শিবিরের বিরুদ্ধে সবাই”—এমন মন্তব্য করতেও তাকে শোনা যায়।
দ্বিতীয় একটি কলের কথোপকথনে রনি জানান, কিছু নাম আপাতত হোল্ডে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের মাধ্যমেই ঠিক হবে। তিনি ভুক্তভোগীকে জানান, অন্য অনেকের কাছ থেকে ৫০, ৩০ বা ২০ হাজার টাকা নিয়ে ম্যানেজ করা হচ্ছে, তবে তার ক্ষেত্রে লক্ষাধিক টাকা দাবি করা হয়েছে। এছাড়া মামলা থাকলে বিদেশযাত্রা বা পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনে জটিলতা হবে বলে তাকে ভয়ও দেখান ওই নেতা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু সাঈদ রনি চাঁদাবাজির কথা অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তার হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাক হয়েছিল এবং সেই আইডি কোনো পণ্য বিক্রির সাইটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সেই নম্বরটি তিনি আগেই ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন এবং এর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
এবিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে কাউকে বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে পুরনো ঘটনাকে নতুন রূপ দেওয়া হতে পারে। কেউ ছাত্রদলের নাম ভাঙালে বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। অভিযোগকারীকে প্রমাণসহ উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অডিওতে তার নাম নেওয়া সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মানুষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই এসব করা হচ্ছে। এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।







