খুলনা সদর হাসপাতালে হঠাৎ আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (২০ মে) সকালে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তিনি হাসপাতালটির সার্বিক পরিবেশ ও অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম পরিদর্শনে যান। এ সময় হাসপাতালের রান্নাঘরে গিয়ে রোগীদের জন্য তৈরি করা সবজি নিজে মুখে দিয়ে পরক্ষণেই তা ফেলে দেন এবং খাবারের অত্যন্ত নিম্নমানের কারণে ক্ষুব্ধ হন।
খাবারের এমন বেহাল দশা দেখে সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, এ ধরনের তরকারি আপনাদের নিজেদের বাসায় রান্না হলে কি আপনারা খেতেন? রোগীদের পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি হাসপাতালের সুপারিন্টেনডেন্টকে তাৎক্ষণিকভাবে জবাবদিহি করেন এবং অবিলম্বে ভালো মানের তরকারি ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের কঠোর নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরাসরি সাধারণ রোগীদের বেডের পাশে যান এবং তাঁদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় রোগীরা মন্ত্রীর কাছে রাবিস (জলাতঙ্ক) ভ্যাকসিন নিয়ে নানা হয়রানি এবং হাসপাতাল থেকে না পেয়ে বাইরে থেকে চড়া মূল্যে টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কেনার অভিযোগ করেন। রোগীদের এই অভিযোগ হাতেনাতে ধরে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক গাজী রফিকুল ইসলামকে তীব্র ধমক দেন মন্ত্রী।
ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক গাজী রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, ওপর থেকে সরবরাহ না থাকায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর এই বক্তব্য সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে খুলনা থেকেই ঢাকার কেন্দ্রীয় দপ্তরে ফোন করেন। সেখান থেকে মন্ত্রী জানতে পারেন, খুলনা সদর হাসপাতালের জন্য ভ্যাকসিন আনার ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়কের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা চাহিদাপত্রই পাঠানো হয়নি।
তত্ত্বাবধায়কের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও মিথ্যাচারে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই সংকটের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। মন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শনের সময় তাঁর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত।







