পাবনার ঈশ্বরদীতে এক নামকরা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক এক কোটি ৭০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে মাহমুদ হাসান সোনামনি নামের স্থানীয় এক যুবদল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ মে) পাবনার পার্শ্ববর্তী নাটোরের লালপুর উপজেলার পালিদহ গ্রামে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে সোনামনিসহ তাঁর তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় যুবদল নেতার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন এবং ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মাহমুদ হাসান সোনামনি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পালিদহ এলাকায় এই যৌথ অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে সোনামনির পাশাপাশি তাঁর প্রধান সহযোগী কাজল, সুইটসহ অন্য তিনজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং উদ্ধারকৃত অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে পৃথক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঈশ্বরদী থানা সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীর গোকুলনগর এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মাহমুদুজ্জামান গত ১৫ মে সোনামনি, জাকির ও কাজলের নাম উল্লেখসহ বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেন। এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন যে, গত ১৭ মাসে আসামিরা বিভিন্ন ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে কয়েক দফায় মোট ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা চাঁদা হাতিয়ে নিয়েছেন।
ব্যবসায়ী মাহমুদুজ্জামান তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেন, আসামিরা তাঁর মালিকানাধীন ‘আরাবি পিউরিফাইড ড্রিংকিং ওয়াটার’ ও ‘মেসার্স আহনাফ এন্টারপ্রাইজ’ নামক দুটি প্রতিষ্ঠানে দফায় দফায় চড়াও হয়ে জোরপূর্বক এই বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করেন। এছাড়া এলাকার ‘পদ্মা ড্রিংকিং ওয়াটার’ ও ‘যমুনা ড্রিংকিং ওয়াটার’ এর মালিকদের কাছ থেকেও এই চক্রটি মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল এবং ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছিল।
ভুক্তভোগী এই ব্যবসায়ী আরও জানান, আসামিদের ক্রমাগত অত্যাচার ও হুমকিতে তাঁদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। যার কারণে স্থানীয় থানা পুলিশের পাশাপাশি তাঁরা র্যাব-১২ পাবনার কোম্পানি কমান্ডার বরাবরও একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই চাঁদাবাজ চক্রের মূল হোতারা গ্রেফতার হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তি নেমে এসেছে।
