চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বিয়ের আনন্দঘন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে ওমানে বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের চার সহোদর। বুধবার ভোরে তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সকাল ৭টার দিকে একে একে চারটি অ্যাম্বুলেন্স গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। সেখান থেকে চার ভাইয়ের কফিন নামানো হলে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েন স্বজন ও এলাকাবাসী। কেউ কল্পনাও করেননি, জীবিকার সন্ধানে বিদেশে যাওয়া চার ভাই একসঙ্গে কফিনবন্দি হয়ে ফিরবেন।
নিহতরা হলেন রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তাদের বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তারা রাঙ্গুনিয়ার লালানগর ইউনিয়নের বন্দারাজারপাড়ার প্রয়াত আব্দুল মজিদের ছেলে। পরিবারের একমাত্র জীবিত ভাই মোহাম্মদ এনাম।
বুধবার সকাল ১১টায় হোসনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চার ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজারো মানুষ অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে তাদের দাফন করা হয়। জানাজার ইমামতি করেন ছোট ভাই এনাম।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে চার ভাই ওমানে কর্মরত ছিলেন। বড় দুই ভাই বারাকা শহরে থাকতেন এবং অন্য দুই ভাই কাজের প্রয়োজনে ভিন্ন শহরে অবস্থান করতেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা বিয়ের কেনাকাটার জন্য একত্রিত হন। পরে মুলাদ্দাহা এলাকায় যাওয়ার পর গাড়ির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়।
ওমান পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গাড়ির ইঞ্জিন চালু থাকা অবস্থায় এসির এক্সজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে পরিবারের গর্ভধারিণী মাকে এখনো চার সন্তানের মৃত্যুর খবর পুরোপুরি জানানো হয়নি। স্বজনরা জানিয়েছেন, তাকে আংশিক তথ্য দেওয়া হলেও একসঙ্গে চার ছেলের মৃত্যুর সংবাদ জানানোর সাহস পাচ্ছেন না কেউ।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, একই পরিবারের চার ভাইয়ের মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট সরকারি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে চার ভাইয়ের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে উপস্থিত থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।
