বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র বংশোদ্ভূত জার্মান কোচ থমাস ডুলি। শুক্রবার সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর পরই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
সকাল ৯টার দিকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় এসে পৌঁছান ডুলি। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি সরাসরি হোটেলে যান। এ সময় বাফুফের কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান। কয়েকদিন ধরেই তার আগমন নিয়ে আলোচনা চলছিল, তবে ঢাকায় পৌঁছানোর পরই ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে।
নতুন কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়াটি ছিল দীর্ঘ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। দুই বছরের চুক্তির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আড়াইশ’র বেশি আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে বিশেষ বাছাই কমিটি প্রথমে ২২ জনের তালিকা তৈরি করে, পরে তা কমিয়ে ১১ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়। এরপর সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে থমাস ডুলিকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাফুফে।
শুরুর দিকে ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যান-কে নিয়ে আগ্রহ থাকলেও এজেন্ট ফি সংক্রান্ত জটিলতায় আলোচনা এগোয়নি। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার দিক বিবেচনায় ডুলিকেই বেছে নেয় ফেডারেশন।
চার দশকেরও বেশি সময়ের ফুটবল অভিজ্ঞতা রয়েছে থমাস ডুলির। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে অংশ নেন এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দলের অধিনায়ক ছিলেন। পরে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান-এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
কোচ হিসেবে তার অন্যতম বড় সাফল্য আসে ফিলিপাইন জাতীয় দলের সঙ্গে। তার অধীনে দলটি প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে এবং ইতিহাসের সর্বোচ্চ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে পৌঁছায়। সর্বশেষ গায়ানা জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনকালে চার ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছিল তার দল।
বাফুফে আশা করছে, ডুলির অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলাররা আরও পরিণত হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতীয় দল আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।







