যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে এই মুহূর্তে তেহরানের পথে রয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। ৩৫ সদস্যের একটি বড় প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনি এই সফরে যাচ্ছেন। তাদের বহনকারী পাকিস্তান সরকারের দুটি উড়োজাহাজ ইতোমধ্যে ইসলামাবাদ থেকে তেহরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার সূত্র মতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘোষিত হতে পারে। এই খসড়া চুক্তিতে আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের প্রতি আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সাথে সাথেই এটি কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত চুক্তির মূল শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থল, সমুদ্র ও আকাশ—সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে, সর্বাত্মক ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা। এছাড়া সামরিক, বেসামরিক বা অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে আক্রমণ না করার পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি, সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ এবং প্রচার যুদ্ধ (মিডিয়া ওয়ার) স্থগিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সাথে উভয় পক্ষই সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতি অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে।
অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে এই চুক্তিতে আরব উপসাগর, হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার শর্ত রাখা হয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ ও বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি যৌথ মেকানিজম তৈরি করা হবে এবং সাত দিনের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। চুক্তির শর্তাবলী পালনে ইরানের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে ধাপে ধাপে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে বলে খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলের পর এবার একটি কাতারি প্রতিনিধিদলও তেহরানে পৌঁছেছে। তারা এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির কাঠামো নিয়ে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের সাথে একত্রে কাজ করবে বলে জানা গেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।







