ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি একটি খসড়া সমঝোতা চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির মন্তব্য করেন যে, ইরান বর্তমানে অত্যন্ত দূরদর্শী ও বুদ্ধিমান মানুষদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। নিজেদের পেশাগত অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তারা দুজনেই নিজ নিজ দেশের সৈনিক। আর সৈনিকরা সবসময় কোনো ধরনের রাখঢাক ছাড়াই স্পষ্ট কথা বলে এবং তাদের কথায় কোনো ধোঁয়াশা থাকে না।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ খসড়া সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান। এই খসড়াটি ইতিমধ্যে তেহরান ও ইসলামাবাদ উভয় পক্ষেরই আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছে। প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে এই চুক্তিতে কৌশলগত কারণে আপাতত পারমাণবিক ইস্যুটিকে বাদ রাখা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিন পর এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য ও দৃশ্যমান ছাড়ের ভিত্তিতেই কেবল পারমাণবিক বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আলোচনা শুরু হতে পারে।
বৈঠকে ইরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী ও পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, খসড়ায় যা প্রস্তাব করা হয়েছে, এর বাইরে ইরান আর একবিন্দুও ছাড় দেবে না। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের সামরিক সক্ষমতাকে সম্পূর্ণ নতুন করে গড়ে তুলেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে গালিবাফ বলেন, ট্রাম্প যদি বোকামি করে আবারও যুদ্ধের পথ বেছে নেন, তবে ইরানের জবাব হবে আরও শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তৈরি এই খসড়া চুক্তির বল এখন পুরোপুরি আমেরিকার কোর্টে রয়েছে এবং ইরান এখন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় আছে।







