নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চল আলোকবালী ইউনিয়নে আসামি ধরতে গিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মারধর ও লাঞ্ছিত করার শিকার হয়েছেন পুলিশের ছয় সদস্য। বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর বীরগাঁও ও সাতপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দান ও হামলার অভিযোগে নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ এবং অভিযান চালিয়ে দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—তাহসি বেগম, খোরশেদ মিয়া, রহিম মিয়া ও সোহাগী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী সদর মডেল থানার এসআই রামকৃষ্ণ দাসসহ ছয় সদস্যের একটি পুলিশ দল একটি মামলার তদন্ত এবং আসামি গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে স্পিডবোটযোগে আলোকবালী ইউনিয়নের চরাঞ্চলে যান। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা চরাঞ্চলে তাঁদের প্রবেশের কারণ জানতে চাইলে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিব রহমান হাবিবের নেতৃত্বে শতাধিক লোক সংঘবদ্ধ হয়ে ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশ সদস্যদের আটকে মারধর করে।
হামলার খবর পেয়ে বিকেলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, র্যাব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রায় ৮০ সদস্যের একটি যৌথ দল চরাঞ্চলে এক বিশাল অভিযান চালায়। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় আহত পাঁচ পুলিশ সদস্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালের চিকিৎসক গুলসান আরা কবির পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় এএসআই মো. নাজমুল হোসেন বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা হাবিব রহমান হাবিবকে প্রধান আসামি করে ৫২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। নরসিংদী সদর মডেল থানার ওসি এ আর এম আল মামুন জানান, চরাঞ্চলে পুলিশ সদস্যদের কাজে বাধা দেওয়া ও হামলার ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
