ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ওপর সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সোমবার (২৫ মে) এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংকে যাকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের চিহ্নিত দোসর। তাঁর মতো একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে দেশের শীর্ষ ব্যাংকের দায়িত্বে বসানো মূলত খাল কেটে কুমির আনার শামিল।
বিবৃতিতে জামায়াত নেতা বলেন, সরকার একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা তথা সামগ্রিক আর্থিক খাতকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। গত রবিবার ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এবং জনগণের আস্থায় ফাটল ধরানোর হীন উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যানকেও পদচ্যুত করা হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকের কোটি কোটি গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যাংকিং খাতের আড়াই লাখ কোটি টাকা লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদেরকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখে পুনরায় লুণ্ঠনের পথ প্রশস্ত করতেই এই চাল চাল হয়েছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ছাত্র-জনতার তোপের মুখে পদচ্যুত হওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সাবেক ডেপুটি গভর্নরকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় তিনি সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে তাঁর অপসারণ দাবি করেন।
দেশের আর্থিক খাতে প্রকৃত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের অযোগ্য ও দলদাস গভর্নরকে দ্রুত অপসারণের দাবি জানান। একই সঙ্গে লুণ্ঠনকৃত অর্থ ফেরত আনা এবং কোনো একজন যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান করে অভিজ্ঞ ও মেধাবীদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডকে পুনর্গঠন করার আহ্বান জানান। অন্যথায় ব্যাংকিং খাতে উদ্ভূত যেকোনো ধরনের চরম পরিস্থিতির দায় বর্তমান সরকারকেই বহন করতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
