সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সুযোগকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েল ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসের চেয়েও অনেক দ্রুতগতিতে নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা পুনরায় গড়ে তুলছে ইরান। পশ্চিমা সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বড় ধাক্কা খেয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, তেহরান অত্যন্ত গোপনীয়তা ও দক্ষতার সাথে তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আবার শক্তিশালী করে তুলছে।
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার মার্কিন কংগ্রেসে এক শুনানিতে দাবি করেছিলেন, জোরালো হামলার কারণে ইরানের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রায় ৯০ শতাংশই সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে প্রতিরক্ষা খাত পুনর্গঠন করতে ইরানের অন্তত কয়েক বছর সময় লেগে যাবে। তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের সর্বশেষ যৌথ প্রতিবেদন অ্যাডমিরাল কুপারের সেই দাবিকে ভুল প্রমাণ করেছে।
সর্বশেষ গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, বিগত যুদ্ধে ইরানের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারই সম্পূর্ণ অক্ষত ছিল। হামলার সময় ইরান সরকার তাদের এই অত্যাধুনিক লঞ্চারগুলো ভূগর্ভস্থ সিল করা সুরক্ষিত টানেলে নিরাপদে লুকিয়ে রেখেছিল, যা ইতোমধ্যে বাইরে বের করে আনা হয়েছে। বর্তমানে আগের অক্ষত যন্ত্রাংশ, রাশিয়ার সরাসরি কারিগরি সহায়তা এবং চোরাইপথে আনা চীনা উন্নত সরঞ্জাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অস্থায়ী ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত লঞ্চার এবং শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করছে তেহরান।
ইসরায়েলি উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের বর্তমান ধারণা অনুযায়ী, ইরান আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের ড্রোন বহর পুরোপুরি পুনর্গঠন করে ফেলতে পারবে। একই সাথে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন প্রক্রিয়াকে যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হবে তেহরান। পশ্চিমাদের নজরদারি এড়াতে ইরান তাদের এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়াটি মাটির গভীরে ছড়িয়ে থাকা সুরক্ষিত বাঙ্কারগুলোতে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করছে।
