পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে পরিকল্পিত মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির বিরুদ্ধে। উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর বাজার এলাকায় টিসিবির প্রায় ২৪০ কেজি চাল ও ২৪ জন সুবিধাভোগীর ফ্যামিলি কার্ড উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। সোমবার (২৫ মে) রাতে ঘটনাটি নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আসল সত্য উন্মোচিত হতে শুরু করে।
প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান এবং সুবিধাভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া টিসিবির পণ্য ও ফ্যামিলি কার্ডগুলো মূলত ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর বায়তুলমাল বিষয়ক সম্পাদক সাকিল শিকদারের বাড়িতে সাময়িকভাবে রাখা ছিল। সাকিল শিকদারের ছোট ভাই রাজিব স্থানীয় দিনমজুর ও ব্যস্ত মানুষের অনুরোধে এবং কার্ড প্রতি মাত্র ৩০ টাকা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য সংগ্রহ করে দিয়েছিলেন। ২৪ জন সুবিধাভোগীর পণ্য সংগ্রহ করে বিতরণের উদ্দেশ্যে সাময়িকভাবে বাড়িতে রাখায় সেটিকে ‘অবৈধভাবে মজুদ’ আখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করা হয়।
যাদের কার্ড পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে শুভাংকর শীল, সঞ্জিত দাস ও অমিত দাস নামের তিন সাধারণ সুবিধাভোগী স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তাঁরা স্পষ্ট জানান, নিজেদের ব্যস্ততার কারণে তাঁরা স্বেচ্ছায় রাজিবের মাধ্যমে পণ্য সংগ্রহ করিয়েছিলেন। পারিশ্রমিক ও যাতায়াত ভাড়া বাবদ রাজিবকে ৩০ টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, পণ্যগুলো সাময়িকভাবে রাজিবের কাছে রাখার জন্য তাঁরা নিজেরাই অনুরোধ করেছিলেন। ফলে জামায়াত নেতাকে জড়িয়ে চুরির যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।
এ বিষয়ে কেশবপুর ইউনিয়নের টিসিবির ডিলার আবুল কালাম আজাদ জানান, সোমবার ওই এলাকায় টিসিবির পণ্য বিতরণের সময় শেষ পর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি একাধিক বৈধ কার্ড নিয়ে পণ্য নিতে আসেন। নিয়ম অনুযায়ী কার্ড স্ক্যান করে তথ্য মিলে যাওয়ায় তাঁরা পণ্য বুঝিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, একজন ব্যক্তি কতগুলো বৈধ কার্ডের পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন, সে বিষয়ে ডিলারদের ওপর সরকারের আলাদা কোনো বিধিনিষেধ নেই।
ভুক্তভোগী জামায়াত নেতা সাকিল শিকদার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় বিএনপির সাজানো এবং একটি গভীর ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার। সাধারণ মানুষের উপকারের জন্য তাঁর ভাইয়ের করা একটি সেবামূলক কাজকে পুঁজি করে এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা ট্রায়াল বা অপবাদের মাধ্যমে জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর জন্য এই চাল জব্দের নাটক সাজানো হয়েছে। বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
