নরসিংদীর শিবপুরে এক দরিদ্র পরিবারের ১২ বছরের এক শিশু পাশবিক গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এই বর্বরোচিত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরিফ ও আলমগীর নামে দুই যুবকের বিরুদ্ধে শিবপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখনো অভিযুক্ত ধর্ষকদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
মামলার বিবরণে জানা যায়, কিছুদিন আগে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে ছুটি শেষে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল ওই শিশুটি। পথে নির্জন স্থানে একা পেয়ে আরিফ ও আলমগীর নামে দুই যুবক শিশুটির মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তারা শিশুটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর ঘটনাটি কাউকে জানালে শিশুটিকে কেটে টুকরো টুকরো করার ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় তারা। প্রাণভয়ে ও লোকলজ্জার আশঙ্কায় শিশুটি এতদিন বিষয়টি গোপন রেখেছিল। তবে গত রোববার শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক ট্রমা সইতে না পেরে সে তার পরিবারকে বিস্তারিত জানায়।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত ধর্ষক আলমগীরের বড় ভাই ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মিলন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং মামলা তুলে নিতে শিশুর পরিবারকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ধর্ষকের পরিবার ভুক্তভোগীদের মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকেই ধর্ষক আরিফ ও আলমগীরসহ তাদের পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়িঘরে তালা দিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার পরিবার তাকে দ্রুত শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়োজিত কর্তব্যরত চিকিৎসকদের প্রাথমিক ডাক্তারি পরীক্ষায় শিশুটিকে ধর্ষণের স্পষ্ট প্রমাণ মেলে। এরপরই ভিকটিমের অসহায় পরিবার বাদি হয়ে আরিফ ও আলমগীরের নাম উল্লেখ করে শিবপুর থানায় একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করে।
শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কোহিনুর মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই গণধর্ষণের বিষয়ে শিবপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে থাকায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের নিখুঁত অবস্থান নিশ্চিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে। এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
