উত্তর কোরিয়া তাদের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করতে সম্পূর্ণ নতুন ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির দুটি রকেট সিস্টেমের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পিয়ংইয়ংয়ের এই নতুন সামরিক শক্তির প্রদর্শন কোরীয় উপদ্বীপ এবং এর আশেপাশের অঞ্চলে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
পরীক্ষা চালানো রকেট সিস্টেমগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো একটি শক্তিশালী মাল্টি-ক্যালিবার রকেট লঞ্চার। বহুমুখী ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিশেষ লঞ্চারটি থেকে একই সাথে ‘হোয়াসং-১১আরএ’ (Hwasong-11RA) মডেলের কৌশলগত ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং নিখুঁত নিশানাভেদী গাইডেড ২৪০ মিলিমিটার রকেট অত্যন্ত সফলভাবে নিক্ষেপ করা সম্ভব। এই মাল্টি-ক্যালিবার প্রযুক্তি উত্তর কোরিয়ার দূরপাল্লার আক্রমণ ক্ষমতাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুল ও শক্তিশালী করে তুলবে।
পরীক্ষা করা দ্বিতীয় রকেট সিস্টেমটি হলো প্রায় ১০০ কিলোমিটার পাল্লার অত্যন্ত আধুনিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত একটি ট্যাকটিক্যাল ক্রুজ মিসাইল লঞ্চার। অত্যাধুনিক গ্লাইড ও প্রোপালশন প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এই মিসাইলটি আকাশে ওড়ার সময় নিজের গতিপথ পরিবর্তন করে শত্রুপক্ষের রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। এই সিস্টেমটি মূলত দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তের কাছাকাছি থাকা উত্তর কোরিয়ার ফ্রন্টলাইন আর্টিলারি ব্রিগেডগুলোতে মোতায়েন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুটি রকেট সিস্টেমের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এগুলোতে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ‘ফায়ার কন্ট্রোল’ বা অগ্নি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছোঁয়ায় মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই এই প্রযুক্তি অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে শত্রুর অবস্থান শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিখুঁত নিশানা ভেদ করতে পারে। সীমান্তের কাছে এই বিধ্বংসী প্রযুক্তির মোতায়েন দক্ষিণ কোরিয়া ও তার মিত্র দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
