লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৩২৪ জনে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে মার্চ মাস থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮০০ জন যুদ্ধবিরতির পর নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ইসরাইলি এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৪০০টি বিস্ফোরক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
গত ১৭ এপ্রিল ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তা পুরোপুরি মানা হয়নি। উভয় পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করছে।
হিজবুল্লাহর সংসদীয় দল লেবানন সরকারকে ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ইসরাইল নিরাপত্তা সমন্বয়ের নামে নিজেদের আগ্রাসনকে আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে।
এদিকে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে প্রায় ২০টি হামলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী ইউনিফিল জানিয়েছে, বুধবার প্রায় ৬৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা ১৭ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ।
এছাড়া বৈরুতের কাছে ইসরাইলের বিমান হামলায় বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ লেবাননেও হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন।
আগামী শুক্রবার পেন্টাগনে সামরিক প্রতিনিধি দলগুলোর বৈঠক এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নতুন আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
উল্লেখ্য, ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর হিজবুল্লাহর রকেট হামলার মাধ্যমে লেবানন এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এরপর ইসরাইল সেখানে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে।
সূত্র: আল-জাজিরা
