ভারতে ইসরাইলের প্রতি সাধারণ মানুষের জনসমর্থনকে ‘একেবারে পাগলামির পর্যায়ের’ (ক্রেজী লাভ) বলে বর্ণনা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি ভারতকে বিশ্বমঞ্চের একটি ‘বিশাল শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দুই দেশের মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক সম্পর্ককে এক ‘অনন্য ও অটুট বন্ধন’ বলে অভিহিত করেন।
নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে বিশ্বের অনেক জায়গায় বা অনেক দেশের কাছে আমাদের বৈধতা নিয়ে নানা ধরনের রাজনৈতিক সমস্যা ও সমালোচনা পোহাতে হচ্ছে, কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে এমন কোনো সমস্যা নেই। তিনি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে আরও দাবি করেন যে, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ক্ষেত্রে ভারত থেকেই তার সবচেয়ে বেশি অনুসারী বা ফলোয়ার্স রয়েছেন।
ভারতে নিজের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা নিয়ে নেতানিয়াহু এবারই প্রথম এমন মন্তব্য করেননি, এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তিনি এই নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন। এর আগে বিখ্যাত মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’ নামক একটি বিশেষ টকশো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারতে ইসরাইল রাষ্ট্রটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সেখানকার মানুষ ইসরাইলকে দারুণভাবে পছন্দ করে।
উক্ত সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় ২০১৮ সালে নিজের স্ত্রী সারাকে নিয়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফরের চমৎকার স্মৃতি রোমন্থন করেন নেতানিয়াহু। তিনি সেই ঐতিহাসিক সফরকে ভারত ও ইসরাইলের মধ্যকার এক অভূতপূর্ব ‘ভালোবাসার উৎসব’ বলে অভিহিত করেন। পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরাইল সফর প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, মোদি যখন জেরুজালেমে এসেছিলেন, তখন তাকেও আমরা ইসরাইলিরা বুকভরা ভালোবাসা দিয়ে বরণ করে নিয়েছিলাম।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক নানা সংঘাতের জেরে খোদ যুক্তরাষ্ট্রে যখন ইসরাইলের জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থন ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে নেতানিয়াহু ভারতের সঙ্গে নিজেদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বিশ্বমঞ্চে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, পশ্চিমা বিশ্বের চাপ সামাল দিতেই ইসরাইল এখন এশিয়ার এই পরাশক্তির ওপর বেশি ভরসা রাখছে।
