বগুড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক স্থানীয় নেতাকে প্রকাশ্য জুতাপেটা করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর পরই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ওই নেতাকে দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ ও কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে জেলা এনসিপি কর্তৃপক্ষ। একই সাথে তাঁর এই বিতর্কিত অবস্থানের ব্যাখ্যা চেয়ে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশও জারি করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা গেছে, অব্যাহতি পাওয়া ওই নেতার নাম আলী আজম সাব্বির। তিনি এনসিপির শিবগঞ্জ উপজেলা সমন্বয় টিমের একজন অন্যতম সমন্বয়কারী সদস্য ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হলো, তিনি স্থানীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) ড্রাইভিং কোর্সে প্রশিক্ষণ নিতে আসা বেশ কয়েকজন নারী প্রশিক্ষণার্থীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে মুঠোফোনে ও সরাসরি চরম অশালীন আচরণ এবং উত্যক্ত করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আলী আজম সাব্বির নিজেই বগুড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কোর্সের একজন প্রশিক্ষণার্থী। সেখানে প্রশিক্ষণ চলাকালীন তিনি সহপাঠী বেশ কয়েকজন নারীকে মোবাইল ফোনে প্রায়ই অপ্রীতিকর কথা বলতেন এবং তাঁদের ফোনে কুরুচিপূর্ণ খুদে বার্তা বা মেসেজ পাঠাতেন। তাঁর এমন আপত্তিকর আচরণে চরম অতিষ্ঠ হয়ে গত ২৪ মে দুপুরের দিকে কয়েকজন নারী প্রশিক্ষণার্থী মিলে তাঁকে টিটিসির একটি কক্ষে আটকে রাখেন এবং একপর্যায়ে এক নারী তাঁকে জুতো দিয়ে পিটুনি দেন। ওই সময় সাব্বির নিজের ভুল স্বীকার করে সবার সামনে ক্ষমা চান।
কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ড্রাইভিং-বিষয়ক প্রশিক্ষক রাশেদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আলী আজম সাব্বির বেশ কয়েকজন নারী প্রশিক্ষণার্থীর সঙ্গে স্পষ্টত অশালীন আচরণ করেছেন। যার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে একজন নারী প্রশিক্ষণার্থী তাঁকে জুতাপেটা করেন। ঘটনার পর আলী আজম সাব্বির নিজের দোষ স্বীকার করে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন। সরকারি অফিস খোলার পর একাডেমির নিজস্ব কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এই ঘটনার ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি। এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরান স্বাক্ষরিত এক জরুরি চিঠিতে শুক্রবার রাতে আলী আজম সাব্বিরকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। জেলা সম্পাদক জানান, অভিযোগটি তাঁদের নজরে আসার পরপরই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নিজের আচরণের সপক্ষে অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য সাব্বিরকে তিন দিনের সময় দিয়ে শোকজ করা হয়েছে।
