কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের তীব্র আপত্তি এবং স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটির প্রদর্শনী সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি জেলা শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে এই বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল। কিন্তু শেষমুহূর্তে আয়োজনটি স্থগিত হওয়ায় চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন ও মুক্তমনা মানুষেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

এই ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে নির্মাতা আশফাক নিপুন ফেসবুকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ায় সিনেমা সংশ্লিষ্টদের হয়তো বড় কোনো আর্থিক ক্ষতি হবে না, কিন্তু মোটাদাগে এই ক্ষতি মূলত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার এবং মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চায় বিশ্বাসী আপামর মানুষের। সারা দেশে সিনেমাটি সফলভাবে চললেও একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের আপত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তা বন্ধ হওয়াকে সংস্কৃতির ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন অনেকে।
এদিকে, দেশের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নিয়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই দেশের অন্য প্রান্তে ভিন্ন এক সংকটের চিত্র উঠে এসেছে। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় এলাকায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গরুর মাংস বিক্রিতে বাধা প্রদান এবং স্থানীয় কসাই আলমগীরকে প্রকাশ্য হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার আওরঙ্গজেবের এমন কুণ্ঠাবোধহীন হুমকির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী মাংস ব্যবসায়ী প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন, যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।

ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক স্বাধীনতায় বাধা দেওয়ার এই দুটি ভিন্ন চিত্র নিয়ে দেশের সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজের দ্বিমুখী নীতি এখন বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ হওয়া নিয়ে সংস্কৃতি কর্মী থেকে শুরু করে সুশীল সমাজ যেভাবে সোচ্চার ও ক্ষুব্ধ ভূমিকা পালন করছেন, ঠিক তার বিপরীতে গোপালগঞ্জের জলিরপাড়ে একজন সাধারণ কসাইয়ের জীবিকা ও গরুর মাংস বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে তাঁদের রহস্যজনক নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এই দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে এক টেলিভিশন টকশোতে সাংবাদিক আনিস আলমগীর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়া কি দেশের বাইরের কোনো ছিটমহল নাকি?” তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, সারা বাংলাদেশে সিনেমা চললেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কেন চলতে দেওয়া হবে না? তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় সুশীল সমাজের এই অংশের প্রতিনিধিরা যতটা জোরালো কণ্ঠস্বর তুলছেন, গোপালগঞ্জে গরুর মাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা ও কসাইকে হুমকির মতো মৌলিক অধিকার হরণের ঘটনায় তাঁদের তেমন কোনো জোরালো মন্তব্য বা প্রতিবাদী অবস্থান এখনও চোখে পড়েনি, যা সুশীল মহলের পক্ষপাতদুষ্ট মানসিকতাকেই ফুটিয়ে তুলছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।







