জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যকে মারধর করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন—মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম হাফিজ নাহিন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোখলেসুর রহমান আসিফ। এই মারধরের ঘটনার প্রতিকার চেয়ে শুক্রবার রাতে মেলান্দহ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাবেক সেনাসদস্য গোলাম রব্বানী।
আহত গোলাম রব্বানী মেলান্দহ উপজেলার ফুলকোঁচা গ্রামের মৃত আব্বাস উদ্দিনের ছেলে এবং তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট। লিখিত অভিযোগের সূত্র ধরে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন বুধবার রাতে ঝাউগড়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার তীব্র যানজটের মধ্যে মোটরসাইকেল আরোহী গোলাম রব্বানীর সাথে উপজেলা বিএনপি নেতা গোলাম হাফিজ নাহিনের আকস্মিক কথাকাটাকাটি হয়।
ভুক্তভোগী সেনাসদস্যের অভিযোগ, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি মারাত্মক উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিএনপি নেতা গোলাম হাফিজ নাহিন ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর শার্টের কলার ধরে মারধর শুরু করেন। শুধু তাই নয়, এই সময় ওই বিএনপি নেতার সঙ্গে থাকা ছাত্রদল নেতা মোখলেসুর রহমান আসিফও সেখানে এসে ওই সাবেক সেনাসদস্যকে উদ্দেশ্য করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
অবশ্য মারধরের এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম হাফিজ নাহিন। তাঁর দাবি, যানজটের মধ্যে ওই মোটরসাইকেল আরোহীর সঙ্গে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। তিনি নিজে গোলাম রব্বানিকে মারধর করেননি উল্লেখ করে বলেন, সেখানে প্রচুর লোকজনের ভিড় ছিল এবং তাদের মধ্য থেকে হয়তো কেউ এই কাজ করেছে, তবে বিষয়টি তখনই স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়েছিল।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সাবেক সেনাসদস্যকে মারধরের বিষয়ে শুক্রবার রাতে একটি লিখিত অভিযোগ থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছে পুলিশ এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন।
