ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত সাধারণ গ্রাহকদের ওপর পুলিশের গুলি, লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। সোমবার (১ জুন) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি গ্রাহকদের উত্থাপিত যৌক্তিক দাবির প্রতি দলটির পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ঢাকার মতিঝিলে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে সাধারণ গ্রাহকেরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, পুলিশ কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিরীহ আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ এবং জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালিয়ে বহু আমানতকারীকে মারাত্মকভাবে আহত করে, যাঁরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমানতকারীদের নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিতে পুলিশের এমন অযাচিত বলপ্রয়োগ ও দমনপীড়ন অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও যৌক্তিক উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, অতীতে একটি নির্দিষ্ট মহলের মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিংখাতে যে নজিরবিহীন লুটপাট চালানো হয়েছে, দেশের মানুষ তা ভুলে যায়নি। গ্রাহকেরা মনে করেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর এবং তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখলে ব্যাংকটি আবারও ভয়াবহ লুটপাটের মুখে পড়বে। নিজের কষ্টের জমানো টাকার নিরাপত্তা চাওয়া এবং ব্যাংকের সুরক্ষায় সোচ্চার হওয়া প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ব্যাংক মূলত জনগণের আমানতে চলে এবং গ্রাহকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো ব্যাংক টিকতে পারে না। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের কণ্ঠরোধ করতে পুলিশের গুলি চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
বিবৃতিতে কোটি কোটি আমানতকারী ও গ্রাহকদের ক্ষোভ ও উত্তেজনা প্রশমন এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য একটি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিলম্বে এই অবৈধ ও দলীয়ভাবে নিয়োগকৃত নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
