লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের বর্তমান মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দেশটিতে শান্তিরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তবে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সিদ্ধান্ত নেয় যে লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউনিফিল)-এর বর্তমান ম্যান্ডেট ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে।
তবে একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদ মহাসচিব গুতেরেসকে ১ জুনের মধ্যে এমন বিকল্প প্রস্তাব দিতে অনুরোধ করে, যাতে ম্যান্ডেট শেষ হওয়ার পরও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা লেবাননে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বিশেষ করে লেবানন-ইসরাইল সীমান্তবর্তী ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ব্লু লাইন’ পর্যবেক্ষণে তাদের উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যকার কার্যত সীমারেখা হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলটি বর্তমানে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে গুতেরেস তিনটি বিকল্প পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। এসব পরিকল্পনায় যুদ্ধবিরতি তদারকি এবং লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তার জন্য প্রায় দুই হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষী সদস্য মোতায়েনের প্রস্তাব রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তেজনা কমানো, সংলাপ ও সমন্বয় জোরদার করা এবং লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের উপস্থিতি অপরিহার্য। দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও এ ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কারণ দক্ষিণ লেবাননের কিছু সীমান্ত এলাকা এখনও ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসনে সরাসরি আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে ইউনিফিলে প্রায় ৫০টি দেশের সাড়ে সাত হাজার শান্তিরক্ষী সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তারা দক্ষিণ লেবাননে ব্লু লাইনের কাছাকাছি এলাকায় মোতায়েন রয়েছেন।
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউনিফিল লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করে আসছে। যদিও এই সময়ের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে।
লেবাননের একাধিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার অঙ্গীকার করা বৈরুত সরকার ইউনিফিলের ম্যান্ডেট শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে জাতিসংঘের উপস্থিতি অব্যাহত রাখতে চায়।
জাতিসংঘে লেবাননের রাষ্ট্রদূত আহমদ আরাফা বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রমাণ করেছে যে লেবাননের জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা আগের চেয়ে আরও বেশি প্রয়োজন। বিশেষ করে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা এবং দেশের পুরো ভূখণ্ডে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য এই সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গুতেরেসের প্রতিবেদনের প্রশংসা করে তিনি মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানান।
এদিকে জাতিসংঘে চীনের রাষ্ট্রদূত ফু কং বলেছেন, ইউনিফিলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে লেবাননে কোনো নিরাপত্তা শূন্যতা সৃষ্টি না হয় এবং শান্তিরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত থাকে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইল গত আগস্টে ইউনিফিলের ম্যান্ডেট সমাপ্তির সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছিল।
