৭১ এর যুদ্ধপূর্ব বাংলাদেশে ১৮৫ জন সিএসপি অফিসার ছিলেন, যারা মূলত এখনকার বিসিএস অ্যাডমিন ক্যাডারদের পূর্বসূরী। সারা পাকিস্তান থেকে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবীরাই সিএসপি হওয়ার সুযোগ পেতেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এই অফিসারদের মধ্যে মাত্র ১৩ জন সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে বাকি সিএসপি অফিসারদের উপেক্ষা করার সুযোগ নতুন সরকারের ছিল না।
তবে একটি সদ্য স্বাধীন দেশের জন্য প্রয়োজনীয় অফিসারের ঘাটতি মেটাতে তৎকালীন যুবনেতা তোফায়েল আহমেদ একটি বিতর্কিত পদক্ষেপ নেন। কোনো প্রকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়াই ৩৫০ জন ‘মুক্তিযোদ্ধা’ ছাত্রলীগ কর্মীকে সরাসরি প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে এরা যখন নিপায় (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) ট্রেনিং নিতে যায়, তখন জানা যায় যে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হওয়ার মতো শিক্ষাগত যোগ্যতাই এদের অনেকের ছিল না। এদের একমাত্র যোগ্যতা ছিল এরা তোফায়েল আহমেদ বা আব্দুর রাজ্জাকের কর্মী।
এই বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দেশজুড়ে যখন প্রবল সমালোচনা শুরু হয়, তখন চাপের মুখে এদের নিয়োগ বাতিল করে পিএসসি গঠন করা হয়। সেই পিএসসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একিউএম বজলুল করিমকে। তোফায়েল আহমেদ নিজেও ওই বিভাগেরই ছাত্র ছিলেন।
এরপর সরকারিভাবে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্য থেকে প্রথমে ৩৫০ জন এবং পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ৪৫০ জন অফিসার নিয়োগের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও কোনো লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়নি; শুধুমাত্র ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের ক্যাডার করা হয়।
১৯৭৩ সালে এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া বিসিএস ক্যাডাররা পরবর্তীতে প্রশাসনে ‘তোফায়েল-রাজ্জাক ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১৯৯৬ সালে একদল সরকারি কর্মকর্তা সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তৎকালীন বিরোধী দলের রাজনৈতিক আন্দোলন ‘জনতার মঞ্চ’-এ যোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই জনতার মঞ্চে অংশ নেওয়া অধিকাংশ কর্মকর্তাই ছিলেন এই তোফায়েল-রাজ্জাক ক্যাডারের সদস্য।
এমনকি শেখ হাসিনার আমলে তীব্র বিতর্কিত ‘রাতের ভোট’ করার দায়ে অভিযুক্ত সাবেক সিইসি কে এম নূরুল হুদাও এই ঐতিহাসিক ‘তোফায়েল ক্যাডারের’ একজন কর্মকর্তা ছিলেন।
