আগামী দুই বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত ৩ মাসের মাথায় বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। সিস্টেম লস বা চুরি কমিয়ে বিদ্যুতের লোকসান কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও লোকসান সামাল দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিদ্যুৎ বিভাগের এক বৈঠকে দাম না বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন।
সে সময় বিদ্যুৎ খাতের লোকসান সামাল দিতে এ বছর ৪২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দাবি করেছিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। বৈঠকে সংস্থাটি জানিয়েছিল, প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিতরণ করতে খরচ হয় ১২ দশমিক ৯৭ টাকা, অথচ বিক্রি করা হয় মাত্র ৭ টাকায়। এ কারণে গত বছর বিপুল ভর্তুকির পরও পিডিবি ১৭ হাজার কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। তাছাড়া রমজান ও সেচ মৌসুম সামাল দিতে পিডিবির এখনই চার হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন ছিল।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ১ দশমিক ৩৯ টাকা, সঞ্চালন চার্জ ৮ পয়সা ও খুচরা পর্যায়ে ১ দশমিক ৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুতের দাম পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ, গ্রাহক পর্যায়ে ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ ও সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ বাড়ল।
সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, আলোচনা-পর্যালোচনা ও গণশুনানির পর বিদ্যুতের উৎপাদন, ক্রয়, আমদানি ব্যয়, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয়, পাইকারি পর্যায়ে সরকারের ভর্তুকি প্রদান এবং সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। তিনি জানান, বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি পাইকারি দাম ৭ টাকা থেকে ১ দশমিক ৩৯ টাকা বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৩৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ইউনিটপ্রতি সঞ্চালন চার্জ দশমিক ৩১৩৫ টাকা থেকে দশমিক ০৭৫১ টাকা বাড়িয়ে দশমিক ৩৮৮৬ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি সঞ্চালন চার্জ ৩১ পয়সা থেকে বেড়ে এখন ৩৯ পয়সা হবে। অন্যদিকে গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৯ দশমিক ১১ টাকা থেকে ১ দশমিক ৫২ টাকা বাড়িয়ে ১০ দশমিক Sixty-three (১০.৬৩) টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই দাম বাড়ানোর পরও সরকারকে আরও ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।
