ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার আমানত তুলে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন একাংশ গ্রাহক। ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্কের কারণে সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।
গ্রাহকদের দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থে ইসলামী ব্যাংককে নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাকেই বিতর্কিত ও দুর্বল করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সমালোচকরা বলছেন, ইসলামী ব্যাংক কোনো রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি নয়। বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ কেউই এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেনি। ফলে ব্যাংকটির প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা নেই বলেই অনেকে মনে করছেন। বরং বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীনদের একটি অংশ নিজেদের স্বার্থে ব্যাংকটিকে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এস আলম গ্রুপের হাতে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার পর হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ ওঠে। এখন আবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রামভিত্তিক কিছু রাজনৈতিক নেতা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে এস আলমকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের একাংশ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ব্যাংকটি যদি আবারও বিতর্কিত গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে যায়, তাহলে তারা তাদের আমানত তুলে নেবেন। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ধরনের আহ্বান ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বিপুলসংখ্যক গ্রাহক একযোগে টাকা তুলে নিতে শুরু করলে ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। কারণ ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে লাখ লাখ গ্রাহকের আমানত ও আস্থা জড়িত।
সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যেও সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, অতীতে অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আবারও ব্যাংকের দায়িত্বে আনার চেষ্টা চলছে। এতে গ্রাহকদের আস্থা আরও কমে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি কঠোরতার অভিযোগ এনে অনেকে বলছেন, শক্তি প্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তা উল্টো সরকারের জন্য বুমেরাং হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে চলমান সংকট দ্রুত সমাধান না হলে তা শুধু একটি ব্যাংকের সংকটেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দেশের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
