জ্বালানি তেল, এলপিজি গ্যাস ও বিদ্যুতের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নতুন করে বেড়ে গেছে। পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষ ক্রমেই অর্থনৈতিক চাপে পড়ছেন।
সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনজীবনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কৃষি, শিল্প, পরিবহন ও সেবাখাতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। উৎপাদন ব্যয় বাড়ার কারণে শেষ পর্যন্ত এর বোঝা বহন করতে হয় সাধারণ ভোক্তাদের।
সরকার ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য বর্ধিত মূল্যহার প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অধিকাংশ নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার এ সীমার চেয়ে বেশি। ফলে বড় একটি অংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অপচয় ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট ঘাটতির দায় সাধারণ জনগণের ওপর চাপানো হচ্ছে। তাদের দাবি, খাতটির ব্যয় কাঠামো ও দুর্নীতির উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণ করা গেলে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না।
ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারাও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, উৎপাদন ব্যয় বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষ বলছেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন ব্যয়, খাদ্যপণ্যের মূল্য এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ একসঙ্গে বেড়ে যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, মূল্যস্ফীতি ইতোমধ্যে ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নতুন মূল্যবৃদ্ধি বাজারে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং সরকারের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য অর্জনকে কঠিন করে তুলতে পারে।
