নওগাঁর সাপাহার উপজেলার কলমুডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের (অনুপ্রবেশ) চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে কলমুডাঙ্গা সীমান্তের মেইন পিলার ২৩৭-এর পাশ দিয়ে তাদেরকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএসএফের এই পুশইন চেষ্টার বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয় হাঁপানীয়া ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হলেও অনুপ্রবেশকারীরা বর্তমানে দুই দেশের শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৬ বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার আরিফুল ইসলাম মাসুম ব্যাটালিয়ন বাহিনী নিয়ে সেখানে সজাগ আছেন।
অনুপ্রবেশের এই ঘটনার পর বিজিবির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফকে চিঠি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুপুরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে জরুরি ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে পুশইন চেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করা হলেও বিএসএফ অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে অস্বীকার করে। তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিএসএফের গড়িমসি ও অস্পষ্ট অবস্থানের কারণে প্রথম দফার বৈঠকটি কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।
১৬ বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, সীমান্তের কাঁটাতারের গেট খুলে সকালে পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। বিজিবি টহল দলের তৎপরতায় তারা ব্যর্থ হলেও অনুপ্রবেশকারীরা এখনো শূন্যরেখায় ভারতীয় লাইনে রয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারত থেকে পুশইন হয়ে আসা কাউকে বিজিবি গ্রহণ করবে না এবং এ কারণে শূন্যলাইনে বিজিবির অবস্থান ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
পতাকা বৈঠকে তাৎক্ষণিক কোনো সুরাহা না হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। হাঁপানীয়া বিজিবি ক্যাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং সমস্যা সমাধানে বিএসএফের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
