ভারত থেকে বিএসএফের (সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী) পুশইন ঠেকাতে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পুশইন প্রতিরোধে বিজিবির এই বিশেষ উদ্যোগের সঙ্গে এবার যোগ দিয়েছেন স্থানীয় গ্রামপুলিশ ও সাধারণ গ্রামবাসী।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় হিলি সীমান্তে নজরদারি ও টহল ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত শনিবার ভোররাতে হিলির ঘাসুড়িয়া সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ কর্তৃক ৫ জন ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন করার একটি চেষ্টা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়।
সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদারে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ একযোগে কাজ করছেন। গ্রামপুলিশ সদস্য নবিনুর ইসলাম জানান, দেশব্যাপী সীমান্ত এলাকায় পুশইন প্রতিরোধ করার জন্য তাঁরা বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন এবং যেকোনো মূল্যে পুশইনের চেষ্টা প্রতিরোধ করতে প্রস্তুত আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ হোসেন জানান, বিএসএফ যাতে ভারত থেকে কোনো লোককে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাঠাতে না পারে, সে জন্য তাঁরা সীমান্ত এলাকায় লাঠি হাতে রাতভর পাহারা দিচ্ছেন। পুশইন ঠেকানোর পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো ধরনের মাদক পাচার হতে না পারে, সেদিকেও কড়া খেয়াল রাখছেন স্থানীয়রা।
জয়পুরহাট ২০ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল লতিফুল বারী জানান, পুশইন ঠেকাতে তাঁরা স্থানীয় গ্রামবাসী, ভিডিপি এবং রিজার্ভ আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করেছেন। এই দলটি বিজিবির পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত রয়েছে এবং গ্রামবাসী এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করছেন।
তিনি আরও বলেন, বিএসএফ সদস্যরা যেন অঘোষিতভাবে কোনো মানুষকে হঠাৎ করেই গ্রামবাসীদের মাধ্যমে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকে, সে লক্ষ্যেই এই যৌথ প্রতিরোধ ও পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
