কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) তহবিল থেকে ভয় দেখিয়ে চার লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বিপ্লবসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ‘জরুরি সংস্কার কাজ’ দেখিয়ে এই টাকা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে কেআইবির হিসাব বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক দিলীপ কুমার সরকার অভিযোগ করেন, তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে গত ২১, ২৪ ও ২৫ মে তিন দফায় প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে চার লাখ টাকা নেওয়া হয়। ঘটনার সময় কৃষকদল নেতা শাহাদাত হোসেন বিপ্লবের সঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষকদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মির্জা তাহমিদ আহমেদ (রিজভী) সহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানান।
দিলীপ কুমার সরকার প্রথমে অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তিরা এসে কেআইবি সংস্কারের প্রস্তাব দিলে তিনি নিয়মমাফিক করার কথা বলেন। তখন তাঁরা রিকুইজিশন অনুযায়ী টাকা না দিলে তাঁকে চাকরি থেকে ‘ফায়ার’ করার হুমকি দেন। পরবর্তীতে ফেসবুকে দেওয়া অন্য একটি ভিডিওতে তিনি সুর বদলে দাবি করেন, তাঁকে কেউ ভয়ভীতি দেখায়নি এবং সংস্কার কাজের বিল হিসেবেই তিনি ওই টাকা দিয়েছেন।
এদিকে নিয়ম অনুযায়ী, কেআইবির হলভাড়া বাবদ প্রাপ্ত এই টাকা ব্যাংকে জমা রাখার কথা থাকলেও দিলীপ কুমার তা নিজের কাছে গচ্ছিত রেখেছিলেন। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া এই টাকা দেওয়ায় গত ১ জুন কেআইবির প্রশাসক কৃষিবিদ মো. আজিজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলীপ কুমার সরকারকে দেওয়া হয়। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
দিলীপ কুমার সরকারের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি উপলক্ষে কিছু সংস্কার কাজের জন্য তিনি প্রশাসকের অনুমতি নিয়েই অগ্রিম চার লাখ টাকা দিয়েছেন এবং অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা নেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। জেনারেটর সংস্কার, টাইলস মেরামত ও ভবনের রঙসহ বিভিন্ন কাজের বিল দেওয়া হলেও কেআইবি সরেজমিনে পরিদর্শন করে গণমাধ্যম কর্মীরা বিতর্কিত ওই বিলের আওতাধীন রঙ করা বা টাইলস পরিবর্তনের কোনো চিহ্ন পাননি।
অভিযোগের বিষয়ে কৃষকদল নেতা শাহাদাত হোসেন বিপ্লবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষকদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মির্জা তাহমিদ আহমেদ (রিজভী) বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রোগ্রামের কারণে তাঁরা ঈদের আগে জেনারেটর, চায়ের টেবিল সংস্কার, টাইলস ও রঙসহ বিভিন্ন কাজ শেষ করে পাঁচ লাখ ১৫ হাজার টাকার বিল জমা দিয়েছেন। তিনি নিজে টাকা গ্রহণ ও বিলের কাজ করলেও বিপ্লব ভাই শুধু কাজ পরিদর্শন করেছেন এবং তিনি এর মধ্যে নেই বলে দাবি করেন রিজভী।
