জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর এবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর সাংগঠনিক পুনর্গঠন কার্যক্রম জোরদার হওয়ায় যে কোনো সময় ঘোষণা হতে পারে মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নতুন কমিটি। আর সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসলাম।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, রাজপথে সক্রিয় নেতৃত্ব এবং দুঃসময়ে সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখার সক্ষমতার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন তিনি। দলীয় লবিং বা তদবিরের পরিবর্তে ত্যাগ, সংগ্রাম এবং মাঠপর্যায়ের কর্মদক্ষতার ভিত্তিতেই সভাপতি পদে তার নাম জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।
বরগুনার বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া আসলামের শিক্ষাজীবনও ছিল কৃতিত্বপূর্ণ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইএমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কলেজ পর্যায় থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
১/১১-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে একাধিকবার হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। ২০০৬ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতর আহত হওয়া, ২০১১ সালে হরতাল চলাকালে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলায় পা ভেঙে যাওয়া এবং ২০১৭ সালে বকশীবাজারে বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরার সময় ইটের আঘাতে কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো ঘটনাগুলো তার রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। এছাড়া ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ এবং ২৯ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে তিনি একাধিকবার গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা যায়।
নানা প্রতিকূলতা, মামলা ও শারীরিক আঘাত সত্ত্বেও তিনি কখনো রাজপথ ছেড়ে যাননি। বিশেষ করে ২০২৩ সালের পর বিরোধী দলগুলোর ওপর কঠোর দমন-পীড়নের সময় তার নেতৃত্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আলোচনায় আসে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও তার নেতৃত্বে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে পুরান ঢাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার সক্রিয় ভূমিকা সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা অর্জন করে।
সমসাময়িক ছাত্ররাজনীতিতে আসাদুজ্জামান আসলামকে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির একজন নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বে থাকলেও তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সরলতা ও সততা বজায় রেখেছেন। নিজের শিক্ষা ও জীবিকার ব্যয় নির্বাহে ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি নিয়মিত একাধিক টিউশনি করিয়েছেন, যা নেতৃত্বের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরও অব্যাহত রয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন তার রাজনৈতিক অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ছাত্রদলের কঠিন সময়ে আসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি পর্যায়ে তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। মেধা, সততা এবং বিনয় তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীনও তার প্রশংসা করে বলেন, আসলামের মতো বিনয়ী ও অমায়িক ছাত্রনেতা বর্তমান সময়ে বিরল। তিনি যেমন মেধাবী, তেমনি পরিশ্রমী। ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের ব্যয় নির্বাহের বিষয়টি তরুণদের জন্য ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে।
রাজনীতির পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাতেও রয়েছে তার সক্রিয় উপস্থিতি। সমাজের অসঙ্গতি, অন্যায়, দুর্নীতি ও প্রতিবাদের বিষয়বস্তু নিয়ে তিনি কবিতা ও সাহিত্য রচনা করে আসছেন। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নয়ন তারা’, ‘প্রেক্ষাপট’, ‘কল্পিত নয়’ এবং ‘সংমিশ্রণ’।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, পরীক্ষিত ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, সততা ও নেতৃত্বগুণের সমন্বয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নেতৃত্বে আসাদুজ্জামান আসলাম বর্তমানে অন্যতম আলোচিত ও সম্ভাবনাময় নাম।
