চলতি বছরও স্থানীয় সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্তর—সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। তবে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন চলতি বছরের শেষভাগে শুরু হতে পারে। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পর এই নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি জানা যাবে।
ক্ষমতা গ্রহণের পর তৃণমূলের এই ভোট বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় ‘অ্যাসিড টেস্ট’ হতে যাচ্ছে। মূলত তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের জনপ্রিয়তার পারদ ও রাজনৈতিক অবস্থান যাচাইয়ের জন্য এই ইউপি নির্বাচনকে পরীক্ষামূলক বা ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে দেখছে সরকার।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে স্থানীয় সরকারের প্রায় সব সংস্থাই নির্বাচন উপযোগী ও মেয়াদোত্তীর্ণ। তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত বা মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এখনো অন্ধকারে রয়েছে এবং রুটিনমাফিক কাজ চালাচ্ছে।
জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হাসান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখন থেকে শুরু হবে, সেটি সম্পূর্ণ একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। এই মুহূর্ত পর্যন্ত মন্ত্রণালয় পর্যায়ে নির্বাচন নিয়ে নীতিনির্ধারণী কোনো আলোচনা হয়নি। সরকার বা মন্ত্রী মহোদয়ের দপ্তর থেকে নির্দেশনা পেলে প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রাজনৈতিক সমীকরণ বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, দীর্ঘ চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠিত হলেও তৃণমূলে এক ধরনের রাজনৈতিক শূন্যতা রয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোও তৃণমূলে মাঠ গোছাতে ব্যস্ত। এই জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনা করেই মূলত সিটি, পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচন কৌশলে পিছিয়ে দিয়ে তুলনামূলক ‘নিরাপদ’ অঞ্চলে ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে ভোট শুরু করতে চায় সরকার।
এদিকে দেশব্যাপী নির্দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসি বর্তমানে পৃথক বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধন করছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিধিমালা ও আচরণবিধির খসড়া তৈরি করে মতামতের জন্য ১৫ জুন ইসির ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হবে। কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, ওয়েবসাইটে ১৫ দিন রাখার পর সবার মতামতের ভিত্তিতে এটি চূড়ান্ত করা হবে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে কোনো নির্বাচন না হওয়ায় বর্তমানে অধিকাংশ সংস্থাই প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। আইনি জটিলতা এড়াতে ইসি ইতোমধ্যে একটি বিশেষ ‘নির্বাচনি ক্যালেন্ডারভিত্তিক সফটওয়্যার’ প্রস্তুত করেছে। স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগামী ৩০ জুন সংসদে বাজেট পাসের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।







