জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস) সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ব্যাংকের নিজস্ব আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যের উল্লেখযোগ্য অমিল দেখা গেছে। মন্ত্রী দাবি করেছেন, প্রকল্পটির আওতায় ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং এর একটি বড় অংশের কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ইসলামী ব্যাংকের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংকের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প আরডিএসের মাধ্যমে মোট ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল এবং গত ৫ আগস্টের পর আরও ১১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়। তিনি দাবি করেন, পরবর্তীতে দেওয়া অর্থের বড় অংশের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, ইসলামী ব্যাংকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের শেষে আরডিএস প্রকল্পের মোট ঋণ স্থিতি ছিল ৬ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের শেষে এই স্থিতি ছিল ৬ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে মাত্র ৭৭ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ১৪ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আরডিএস প্রকল্পের ঋণ আদায়ের হার অত্যন্ত সন্তোষজনক। ২০২৫ সালের শেষে ঋণ আদায়ের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। একই সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র ২৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের তুলনায় খুবই সামান্য।
ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি চালুর পর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৩৫ হাজার ৩৫২টি গ্রামের প্রায় ১৭ লাখ ৭৫ হাজার পরিবার আরডিএসের আওতায় ঋণ সুবিধা পেয়েছে।
এ অবস্থায় সংসদে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এবং ইসলামী ব্যাংকের প্রকাশিত আর্থিক তথ্যের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক ও যাচাইকৃত তথ্য উপস্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি।
