আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স নয়, বরং এর প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইনজীবী শিশির মনির।
শুক্রবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে লাইসেন্স বাতিলসংক্রান্ত আদেশের কপি প্রকাশ করে তিনি এ দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছিল, সেখানে উল্লেখিত লাইসেন্স নম্বরটি হাসপাতালের নয়, প্যাথলজি সেন্টারের।
শিশির মনির জানান, গত ৪ জুন দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর আওতায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে HSM 4310059 নম্বরের লাইসেন্সের উল্লেখ ছিল, যা হাসপাতালের নয়, প্যাথলজি ল্যাবরেটরির লাইসেন্স বলে দাবি করেন তিনি। হাসপাতালের লাইসেন্স নম্বর HSM 4310058।
তার মতে, প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য পৃথক দুটি লাইসেন্স রয়েছে—একটি হাসপাতালের জন্য এবং অন্যটি প্যাথলজি সেন্টারের জন্য। ফেসবুক পোস্টে উভয় লাইসেন্সের কপি সংযুক্ত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কর্তৃপক্ষ আসলে কোন লাইসেন্স বাতিল করেছে।
তবে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, আদেশে স্পষ্টভাবে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আদেশে পরবর্তীতে সংশোধনী আনা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের শোকজ নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় আইন অনুযায়ী হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ মে হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় অক্সিজেন সংকট ও কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, লাইসেন্স বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
