বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায়ও বর্তমান সরকার আরও প্রকাশ্যভাবে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের পথে নিয়ে যাচ্ছে। তার দাবি, জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে প্রশাসনিক কাঠামোকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার রাতে রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী চকবাজার-বংশাল জোন ইউনিট দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মা’ছুম বলেন, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরকার নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তার অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পর এখন ব্যাংক ও বীমা খাতেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে সরকার ব্যাংক খাতে নতুন করে হস্তক্ষেপের পথ তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ঘটেনি। তার ভাষ্য, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দখল, লুটপাট, খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য সরকারকে দায়ী করেন।
সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন এ টি এম মা’ছুম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের প্রবণতা দেখা গেলেও সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের মতো ইস্যুতে সরকার আন্তর্জাতিক পরিসরে কার্যকর অবস্থান নিতে পারছে না। এসব ক্ষেত্রে সরকার নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে তার অভিযোগ।
তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, জনগণের স্বার্থবিরোধী অবস্থান অব্যাহত থাকলে অতীতের সরকারগুলোর মতো কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির বলেন, শহীদ পরিবারের দায়িত্ব সমাজ ও জাতির কাছে একটি আমানত। তিনি শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের আহ্বান জানান এবং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জামায়াতের অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি এবং চকবাজার-বংশাল জোন পরিচালক দেলাওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলন পরিচালনা করেন জোনের সহকারী পরিচালক এস এম আহসান উল্লাহ। অনুষ্ঠানের শুরুতে দারসুল কুরআন উপস্থাপন করেন লেখক, গবেষক ও ইসলামিক চিন্তাবিদ মুফতি আলী হাসান ওসামা।
সম্মেলনে বংশাল দক্ষিণ থানা আমির মাহাবুব আলম ভুঁইয়া, চকবাজার দক্ষিণ থানা আমির মো. আনিছুর রহমান, চকবাজার উত্তর থানা আমির মাওলানা মাহফুজুর রহমান, বংশাল পশ্চিম থানা আমির মাওলানা বিলাল হোসাইন, চকবাজার পূর্ব থানা আমির মো. রফিকুল ইসলাম সিকদার, চকবাজার পশ্চিম থানা আমির মো. আবুল হোছাইন রাজনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বাজেট ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার বেসরকারি ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যা অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তার মতে, এতে ব্যবসায়ী ও নতুন উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় ঋণ থেকে বঞ্চিত হবেন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে যাবে।
তিনি আরও বলেন, যে বাজেট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করে, তাকে জনবান্ধব বলা যায় না। সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটে সংশোধন এনে জামায়াতে ইসলামীর সুপারিশ বিবেচনায় একটি জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।
