জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নারী সংসদ সদস্যদের হিজাব ও নিকাব নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে এবং সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের প্রকাশ্য ক্ষমার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সম্মিলিত নারী শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির ৩৪ জন সদস্যের মধ্যে বেগম রাজিয়া বানু ছিলেন একমাত্র নারী সদস্য। অত্যন্ত গৌরবের বিষয় হলো, তিনিও সম্পূর্ণ পর্দানশিন পোশাকে থেকেই তাঁর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন।” তাই সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও মুসলিম অনুভূতির পরিপন্থী এমন মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান তারা।
শিক্ষার্থীরা আরও উল্লেখ করেন, অতীতেও বিভিন্ন সময় হিজাব ও নিকাব নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের বিতর্কিত মন্তব্য করতে দেখা গেছে, কিন্তু সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর আইনি বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যার ফলে সংসদে দাঁড়িয়ে এমন ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস পাচ্ছেন অনেকে। তাঁরা মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান দলীয় ও সংসদীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তাঁর প্রকাশ্য ক্ষমা দাবি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী তাজমিন রহমান বলেন, “সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় নারী এমপিদের হিজাব এবং নিকাব নিয়ে কটূক্তি করেছেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, একই সময়ে অন্যান্য কিছু নারী এমপি সংসদে বসেই টেবিল চাপড়ে সেটিকে সমর্থন জানাচ্ছেন এবং উল্লাস প্রকাশ করছেন।”
তিনি আরও বলেন, “যেখানে দেশের সংবিধানেই ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে এবং পবিত্র কোরআনে নারীদের পর্দার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ রয়েছে, ঠিক সেই স্পর্শকাতর জায়গা নিয়ে একজন আইনপ্রণেতা কীভাবে সংসদে দাঁড়িয়ে বিদ্রূপ করলেন? দলগুলোর রাজনৈতিক আদর্শের পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তারা কারও ব্যক্তি স্বাধীনতা কিংবা পোশাক নিয়ে এভাবে কথা বলতে পারে না।”
