জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম মহানগর নেত্রী সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দলটির এক নারী কর্মী।
শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ির একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই তরুণী অভিযোগগুলো প্রকাশ করেন। তিনি নিজেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, এনসিপির কর্মী এবং মহানগর নারীশক্তির পদপ্রত্যাশী হিসেবে পরিচয় দেন।
অভিযোগকারী জানান, নারীশক্তির কমিটি নিয়ে আলোচনার কথা বলে গত ১৪ জুন তাকে নগরীর একটি হোটেলে নিয়ে যান মহানগর নেত্রী সাদিয়া আফরিন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান বৈঠকের স্থান হিসেবে হোটেলের রুফটপ বার নির্ধারণ করা হয়েছে।
তার দাবি, সেখানে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
তরুণীর অভিযোগ, ওই পরিবেশে তাকে ধূমপান ও পানীয় গ্রহণে উৎসাহিত করা হয়। পরে তিনি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন এবং আপত্তিকর আচরণ ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের শিকার হন।
তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক পদ-পদবি ও বিভিন্ন সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারী বলেন, বিষয়টি নিয়ে সাদিয়া আফরিনের সঙ্গে কথা বললে তিনি তাকে রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে প্রভাবশালী নেতাদের ব্যক্তিগত সময় দেওয়ার পরামর্শ দেন।
এ ঘটনায় গত ১৭ জুন চকবাজার থানায় আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন ও সাদিয়া আফরিনের নাম উল্লেখ করে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে একটি জিডি হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
অভিযুক্ত আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মুখ্য সংগঠক ও চট্টগ্রাম অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়া গেলে এবং এটি হয়রানিমূলক প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত চাইলে মানহানির মামলায় দল সহযোগিতা করবে।
