হজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, দুর্নীতি এবং কোরবানির অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে। সৌদি সরকারের ডিজিটাল ব্যবস্থা ‘নুসুক’ অ্যাপে কোরবানির তথ্য অনুপস্থিত থাকায় অনেক হাজির মধ্যে সন্দেহ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হজে গিয়ে নিজের জীবনের সঞ্চয় ব্যয় করা একাধিক হাজি অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত কোরবানির অর্থ নেওয়া হলেও তার কোনো প্রমাণ তারা পাননি। অনেকেই সৌদি আরবের অনলাইন সিস্টেমে কোরবানির রেকর্ড না পেয়ে এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
নুসুক অ্যাপে তথ্য না থাকায় সন্দেহ
চলতি বছর থেকে সৌদি সরকার কোরবানির প্রক্রিয়া ‘নুসুক’ অ্যাপের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক করেছে। এই ব্যবস্থায় প্রতিটি হাজির কোরবানির তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকার কথা। বাংলাদেশ সরকারও হজের আগে এজেন্সিগুলোকে এই তথ্য আপলোড করার নির্দেশ দেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, অনেক এজেন্সি এই নির্দেশনা মানেনি, ফলে হাজিদের মধ্যে অনাস্থা বাড়ে।
হজ ক্যাটাগরি নিয়ে বিভ্রান্তি
হজের তিনটি ধরন—তামাত্তু, কিরান ও ইফরাদ। এর মধ্যে তামাত্তু ও কিরান হজে কোরবানি বাধ্যতামূলক হলেও ইফরাদ হজে কোরবানি দিতে হয় না। অভিযোগ উঠেছে, কিছু এজেন্সি হাজিদের অজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তাদের তামাত্তু হজের বদলে ইফরাদ হিসেবে নিবন্ধন করেছে।
একজন প্রবাসী চিকিৎসক অভিযোগ করেন, তার কাফেলার কেউই ইফরাদ হজ করেননি, অথচ রেকর্ডে তাদের বড় অংশকে ইফরাদ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
কিছু এজেন্সির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে অনেক কম কোরবানির তথ্য দেখানো হয়েছে এবং বাকিদের ক্ষেত্রে কোরবানির কোনো রেকর্ড নেই।
অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ
হাজিদের কাছ থেকে প্যাকেজের বাইরে কোরবানির নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি ‘দম’ (হজে ভুল সংশোধনের কোরবানি) বাবদও আগাম অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে জানা যায়।
কিছু হাজির দাবি, সরকারি নির্ধারিত প্যাকেজের ভেতর কোরবানি অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে আলাদা করে টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে কোরবানির কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তারা এজেন্সির কাছে ব্যাখ্যা চান।
টাকা ফেরত দিয়ে সমঝোতার চেষ্টা
অভিযোগ ওঠার পর দেশে ফেরার পর কিছু এজেন্সি অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেয় বলে জানা গেছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রত্যাহারের শর্তে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সিগুলো অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সব অর্থ যথাযথভাবে লিড এজেন্সির মাধ্যমে কোরবানির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। তারা দাবি করেছে, প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু তথ্য নুসুক অ্যাপে ঠিকভাবে আপলোড হয়নি।
সরকারের অবস্থান
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ বাংলাদেশি হাজি বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে হজ পালন করেন। নির্দিষ্ট কোনো এজেন্সি নিয়ম ভঙ্গ করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এখনো সব এজেন্সির কোরবানি কার্যক্রম যাচাইয়ের পূর্ণাঙ্গ কোনো পরিসংখ্যান সরকারের হাতে নেই বলে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
