ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছিল। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এখন তাঁর সফরসূচি চূড়ান্ত হয়েছে।
আগামী রোববার প্রথমে তিনি মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন। সেখান থেকে সরাসরি চীনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চলবে এই বহুল আলোচিত চীন সফর। সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবায়দা রহমানসহ মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
সফরের মূল কর্মসূচি
২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেবেন। এরপর ২৪ জুন তিনি বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছাবেন। ২৫ ও ২৬ জুন বেইজিংয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
এই সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি একটি বিনিয়োগ ফোরামেও অংশ নেবেন তিনি।
আলোচনার প্রধান ক্ষেত্র
সফরে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), গণমাধ্যম, যোগাযোগ ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই সফরে অন্তত তিনটি চুক্তি এবং ১০টিরও বেশি এমওইউ স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
কৌশলগত ও রাজনৈতিক গুরুত্ব
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কৌশলগত তাৎপর্য বহন করছে। ঢাকা–বেইজিং সম্পর্ককে নতুন ভিত্তিতে উন্নীত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে এই সফরের মাধ্যমে।
তাইওয়ান ইস্যু, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং বৈশ্বিক জোটগুলোর প্রসঙ্গও আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করতে পারে।
সম্ভাব্য সহযোগিতা
সফরে তিস্তা প্রকল্প, রেল যোগাযোগ, গ্রিন এনার্জি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষিসহ একাধিক খাতে বড় ধরনের সহযোগিতা চাওয়া হবে বলে জানা গেছে।
তবে সামরিক সহযোগিতা ইস্যু তুলনামূলকভাবে সংবেদনশীল হওয়ায় এ বিষয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা।
বিশেষজ্ঞদের মত
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সফর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক কৌশলে নতুন দিক নির্দেশনা দিতে পারে।
সাবেক কূটনীতিকদের মতে, চীন এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে, ফলে এই সফরের অর্থনৈতিক গুরুত্বও অত্যন্ত বেশি।
সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরকে ঢাকা–বেইজিং সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
