রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকায় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামিয়া হাইস্কুলের সামনে ঢাকা-১৬ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায়।
হামলায় অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন জামায়াত নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীও রয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করে বিবৃতি দেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
হামলার প্রতিবাদে আজ বিকেল ৫টায় বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। মিরপুর ৬ নম্বর বাজার কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মিছিলটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ঘটনা নিয়ে গতকাল রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এমপি কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন বলেন, নির্বাচনের পর থেকে তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত ৮ মার্চ মল্লিকা হাউজিং এলাকায় একটি মতবিনিময় সভার সময় তাকে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখা হয় এবং ডিম নিক্ষেপসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়।
শুক্রবারের ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি জুমার নামাজ শেষে আসরের নামাজের উদ্দেশে আরেকটি মসজিদে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তিনি স্থানীয় ওসিকে আগে থেকেই ফোন ও লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন। তবে পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয় এবং এতে ১০০ থেকে ৪০০ জন পর্যন্ত বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও কৃষকদলের নেতাকর্মী জড়িত ছিল বলে তিনি দাবি করেন। হামলার নেতৃত্বে কয়েকজন স্থানীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতার নামও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পুরো ঘটনার দায় রূপনগর থানা পুলিশের, এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা না থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এক বিবৃতিতে বলেন, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে এবং এতে ১০–১৫ জন আহত হয়েছেন।
তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলেন, ভিন্নমতের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন। পাশাপাশি তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
