মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের জিরা লুটের মামলায় জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সামাজিক সংস্থার (জাসাস) সাবেক এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত জাহেদ আলী শ্রীমঙ্গল শহরের শাহীবাগ এলাকার মৃত নায়েব আলীর ছেলে এবং শ্রীমঙ্গল পৌর জাসাসের আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্যসচিব ছিলেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে সিলেটের ব্যবসায়ী আফজালুর রহমানের মালিকানাধীন জিরাবাহী একটি কাভার্ডভ্যান শ্রীমঙ্গল শহরের পুরানবাজার এলাকায় পৌঁছালে জাহেদ আলীসহ ৩-৪ জন দুষ্কৃতকারী গাড়িটির গতিরোধ করে। এ সময় তারা অস্ত্রের মুখে চালক ও হেল্পারকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে ফেলে।
অভিযোগে বলা হয়, দুষ্কৃতকারীরা কাভার্ডভ্যানে থাকা ১৬০ বস্তা জিরা, নগদ ২০ হাজার টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোনসহ পুরো গাড়িটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে শ্রীমঙ্গল শহরতলীর উত্তরসুর এলাকায় চালক ও হেল্পারকে চলন্ত গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে তারা মালামালসহ কাভার্ডভ্যানটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মামলা ও অভিযান
নৃশংস এই ছিনতাইয়ের ঘটনার পর ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আফজালুর রহমান ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে গত শনিবার তিনি বাদী হয়ে জাহেদ আলীসহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পরপরই শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটায় শ্রীমঙ্গল থানার এসআই বাবলু পালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল শহরের শাহীবাগ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জাহেদ আলীকে তার নিজ বাসস্থান থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
আগেই পদচ্যুত করা হয়েছিল জাহেদকে: জেলা জাসাস
জাহেদ আলীর গ্রেপ্তারের বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা জাসাসের আহ্বায়ক মো. শামছুল ইসলাম রাসেল এবং সদস্যসচিব জসীম উদ্দিন এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে জাহেদ আলীকে বেশ কিছুদিন আগেই শ্রীমঙ্গল পৌর জাসাসের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব পদ থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি বা বহিষ্কার করা হয়েছে। ফলে তার এই অপকর্মের দায়ভার দল নেবে না।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ব্যবসায়ীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত অ্যাকশনে নেমে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
