লেবাননের চলমান সংকট মোকাবিলায় হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সিরিয়া কোনো অবস্থাতেই হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে না। বরং সংকট নিরসনে রাজনৈতিক সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট আল-শারা বলেন, লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতির সমাধান যুদ্ধ, হামলা বা শহরগুলোতে বোমাবর্ষণের মাধ্যমে সম্ভব নয়। তিনি জানান, লেবানন সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি “সৃজনশীল সমাধান” খুঁজে বের করতে সহায়তা করতে সিরিয়া প্রস্তুত রয়েছে। তবে এ সহযোগিতা কোনো সামরিক অভিযানের অংশ হবে না।
আল-শারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু অনেকেই তার বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে এমন ধারণা ছড়িয়েছেন যে, সিরিয়া খুব শিগগিরই লেবাননে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে যাচ্ছে। এ ধরনের ধারণার কোনো ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে লেবাননের সব রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের ব্যবস্থা করা। তিনি মনে করেন, দেশটির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় হিজবুল্লাহকেও অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দেন তিনি।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আল-শারার এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, সিরিয়া বর্তমানে সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে রাজনৈতিক সমঝোতা ও আলোচনার মাধ্যমে লেবানন সংকটের সমাধান দেখতে চায়।
