আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির বীরত্বগাঁথা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। সরকারের বিনামূল্যে বিতরণ করা পাঠ্যবই প্রণয়ন ও প্রকাশনার দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সর্বশেষ উচ্চপর্যায়ের সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সভায় আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন পরিবর্তন ও সংযোজন নিয়ে আলোচনা হলেও ওসমান হাদির বিষয়টি কোনো এজেন্ডায় স্থান পায়নি।
জানা গেছে, ২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে এনসিটিবি। এর অংশ হিসেবে মাধ্যমিক স্তরের নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ শীর্ষক দুটি প্রবন্ধের আলোকে নতুন পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধ, রাষ্ট্রগঠন এবং জাতীয় ইতিহাস সম্পর্কে নতুনভাবে জানার সুযোগ পাবে।
এছাড়া প্রাথমিক স্তরের পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ‘আমাদের স্মরণীয় নেতা’ অধ্যায়েও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে পাঠটিতে অন্তর্ভুক্ত থাকা চার জাতীয় নেতার পাশাপাশি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিষয়েও তথ্য সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে আলোচনায় থাকলেও শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির জীবন, অবদান বা বীরত্বগাঁথা প্রাথমিকের ‘আমাদের স্মরণীয় নেতা’ পাঠে কিংবা অন্য কোনো অধ্যায়ে যুক্ত করা হচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষের নতুন পাঠ্যক্রমে তার নাম বা অবদান অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত থাকছে না।
এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পাঠ্যবইয়ে নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা, শিক্ষাগত প্রয়োজনীয়তা এবং বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ বিবেচনায় নেওয়া হয়। ২০২৭ সালের পাঠ্যপুস্তকের খসড়া চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে এগিয়ে চলেছে এবং অনুমোদিত বিষয়বস্তুর ভিত্তিতেই বই প্রকাশ করা হবে।
পাঠ্যবইয়ে নতুন সংযোজন ও বাদ পড়া বিষয়গুলো নিয়ে শিক্ষাবিদ, অভিভাবক এবং বিভিন্ন মহলে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় ইতিহাস ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থাপন নিয়ে আগামী দিনগুলোতে আরও বিতর্ক ও মতবিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
