শরিফ ওসমান হাদি হত্যা এবং এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য চেয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে গিয়ে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এ দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির সিনিয়র নেতা ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য এবং ঋণখেলাপি সংক্রান্ত মামলায় জড়িত দুই সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের বিষয়েও বক্তব্য রাখেন।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া শহীদ শেখ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড ঘিরে বিভিন্ন গুঞ্জন ও গুজব ছড়িয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, এসব আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “আমি যদি নাম বলে দিই, তাহলে বাংলাদেশে উতাল-পাথাল পরিস্থিতি তৈরি হবে।” এ ধরনের বক্তব্যের ফলে বিভ্রান্তি ও গুজব আরও বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ কারণে বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং বা ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন বলেও মত দেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, মির্জা আব্বাস চিঠির মাধ্যমে সংসদকে অবহিত করেছেন যে তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে। সুস্থ হলে তিনি যথাসময়ে সংসদের কার্যক্রমে যোগ দেবেন।
হাদি হত্যা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, আদালতে বিচারাধীন কোনো বিষয় এবং গুজব জাতীয় সংসদের আলোচ্য হতে পারে না। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “গুজব কখনো জাতীয় সংসদের বিবেচ্য বিষয় নয়।”
এছাড়া কোনো সংসদ সদস্যের সদস্যপদ নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে সংসদকে যথাসময়ে অবহিত করা হবে বলেও জানান স্পিকার।
