দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইসরাইলের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন প্রায় অলিখিত নিয়ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। কংগ্রেসে প্রতি বছর ইসরাইলকে বিপুল সামরিক সহায়তা অনুমোদন দেওয়া হলেও এর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক বিরোধিতা খুব কমই দেখা গেছে। তবে দ্য ন্যাশন–এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সেই বাস্তবতায় এখন বড় ধরনের পরিবর্তন শুরু হয়েছে।
সাম্প্রতিক নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচনে ফিলিস্তিনপন্থি অবস্থান নেওয়া একাধিক প্রার্থীর জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষণটি বলছে, ফিলিস্তিনি অধিকারের প্রশ্ন এখন কেবল মানবাধিকার ইস্যু নয়, বরং তা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
নির্বাচনে দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্য ড্যান গোল্ডম্যান পরাজিত হয়েছেন। তিনি বরাবরই ইসরাইলের নীতির সমর্থক ছিলেন এবং গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনাকে প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ সংকটে ক্ষুব্ধ ভোটারদের কাছে ইসরাইলকে বিপুল সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার অবস্থান তার বিরুদ্ধে কাজ করেছে।
একই রাতে আরেকটি আলোচিত ফলাফলে প্রো-ফিলিস্তিন প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ারও জয় পান। শক্তিশালী লবিং ও বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও তার প্রতিদ্বন্দ্বী পরাজিত হন। এতে বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভোটারদের অবস্থান আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে।
দ্য ন্যাশন আরও বলছে, নিউইয়র্কের মেয়র পদে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনপন্থি প্রার্থীদের সমর্থন দিয়ে রাজনৈতিক ঝুঁকি নিলেও শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সমর্থন পেয়েছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের বড় অংশ গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন এবং অনেকেই ইসরাইলে মার্কিন অস্ত্র সহায়তা বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন।
একই সঙ্গে তরুণ রিপাবলিকানদের মধ্যেও এ বিষয়ে মত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্লেষণের উপসংহারে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিন প্রশ্নে মার্কিন জনমত দ্রুত বদলাচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টি যদি এই পরিবর্তনকে গুরুত্ব না দেয়, তাহলে ভবিষ্যতের নির্বাচনে তাদের রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে। ফিলিস্তিনি অধিকারের প্রতি সমর্থন এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ক্রমেই একটি নির্ধারক ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে।
