চীনের বেইজিংয়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) ইতিহাস জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন চারদিনের সরকারি সফরে দেশটিতে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে তিনি এই জাদুঘর পরিদর্শনে যান।
জাদুঘরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও স্বাগত জানান এর কিউরেটর। পরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও উচ্চপর্যায়ের সফরসঙ্গীদের নিয়ে পুরো জাদুঘরটি ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁরা সিপিসির ইতিহাস-ঐতিহ্য সমৃদ্ধ গ্যালারিগুলো প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি একটি আধুনিক ইমার্সিভ অডিও-ভিজ্যুয়াল কোস্টার শো উপভোগ করেন। পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরের পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্টহাউসের উদ্দেশে জাদুঘর প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
জাদুঘর পরিদর্শনের আগে আজ বেইজিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। সকাল সোয়া ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারে যান এবং চীনের জাতীয় বীরদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
এরপর বেইজিংয়ের বিখ্যাত ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন তিনি। এই সাক্ষাতের পরপরই একই স্থানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও কৌশলগত বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

উল্লেখ্য, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের বিশেষ আমন্ত্রণে চারদিনের এই দ্বিপক্ষীয় সরকারি সফরে চীন যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে, গত ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে সরকার গঠনের পর তাঁর প্রথম সরকারি বিদেশ সফর শুরু হয়েছিল। মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘সামার দাভোস ২০২৬’ সম্মেলনে অংশ নিতে চীনের দালিয়ান শহরে যান। সেখানে দুই দিনের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর বুধবার বিকেলে তিনি বেইজিং পৌঁছান। সফরে গতকাল বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনাসহ রাষ্ট্রীয় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
পরবর্তীতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) আনুষ্ঠানিকভাবে সই হয়। অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ এই সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানটি আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।







