বাংলাদেশে মদপানের জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক থাকার আইনি যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “গাড়ি চালাইতে লাইসেন্স লাগে, মোটরসাইকেল চালাইতে লাইসেন্স লাগে, দোকান চালাইতেও লাইসেন্স লাগে। এখন শুনি মদ খাইতেও নাকি লাইসেন্স লাগে। এটা কোন দেশের আইন আমি জানি না।”
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, মদ এবং মাদকের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, সে বিষয়ে একটি পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, “মাদক আর মদ, এটা মেলানো দরকার। কারণ পুলিশ একটা ব্যবসা পাইছে। এক বোতল মদ পাইলে মানুষকে মামলা দেয়।”
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই। এই প্রতিকূল অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য পুলিশের বাজেট আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জাতীয় সংসদে মত দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ থানাগুলোতে পর্যাপ্ত টহল গাড়ির ঘাটতি রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত পুলিশি টহল না থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
বক্তব্যের পরিশেষে, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামগ্রিক কর্মক্ষমতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান এমপি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।
